পছন্দের ৫ ফুডপর্ন

0

বিখ্যাত শেফ গর্ডন রামসির একটি শো’ আছে। নাম – ‘দ্যা এফ ওয়ার্ড’। সাধারণ ভাবে এফ ওয়ার্ড বলতে F**K শব্দটা বোঝালেও শেফ রামসির শো’টার এ্যাক্রোনিম ‘দ্যা ফুড ওয়ার্ড’।

ভিস্যুয়াল মিডিয়ায় বেশির ভাগ সময়ই সেক্স বা প্রোফ্যানিটি কোন প্রোডাকশনের হাই রিটার্ন নিশ্চিত করে। তবে সেক্সের মতোই আরেকটি জিনিসের প্রতিও মানুষের একই রকমের আদিম টান রয়েছে। আর তা হচ্ছে ফুড। সিলভার স্ক্রিন বা নিউজ পেপার বা ব্লগে ফুডের গ্ল্যামারাইজড এবং এক্সোটিক রিপ্রেজেনটেশনকে তাই অনেকে বলে ফুডপর্ন।

ফুলদম ফুডি হিসেবে ফুডপর্ন আমার খুব প্রিয় একটি জনরা (মূলত সাব জনরা)। বলা হয়, ঘ্রানে অর্ধভোজন, দর্শনে কোয়ার্টার বা সিঁকি ভোজনের জন্য ৫টি মুভি আমার খুব পছন্দের।

৫.

Yin shi nan nu:

Image obtained from IMDB. No copyright infringement intended.

লাইফ অফ পাই খ্যাত ডিরেক্টর এ্যাং লি’র ১৯৯৪ এর সিনেমা ইন শি নান নু। তাইওয়ানিজ ভাষায় তৈরি সিনেমাটার গল্প মাস্টার শেফ মিস্টার জু ও তাঁর ৩ মেয়েকে ঘিরে।

শেফ জু’র বাসার আইন হচ্ছে প্রতি রোববার সবাইকে একসাথে ডিনার করতে হবে। মেয়েরা বড় হচ্ছে, স্বাধীন হচ্ছে – একজন একটি ফার্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট, একজন স্কুল টিচার আরেকজন একটি ফুডসপে চাকরী করে। সবার কাছেই এই ডিনার র‍্যুলস যেন একটা অত্যাচার।

Yin shi nan nu এর প্রধান ব্যাকড্রপ ফুডের রেসিপি না বরং ভালোবাসার রেসিপি। যদিও আমার বন্ধুবান্ধবদের মতে আমি ‘প্রেম নাস্তিক’ তবুও মুভিটার গল্প ও এক্সিকিউশনের সিমপ্লিসিটি কোথাও না কোথাও প্রতিটি মানুষকেই টাচ করে। আর কারো যদি একান্তই রোমান্টিক আবহ পছন্দ না হয়, তবে অথেন্টিক চাইনিজ ফুড রান্নার সিক্যুয়েন্স এবং সুস্বাদু খাবারের ছবি তো সাপোর্টের জন্য আছেই।

৪.

Ratatouille:

Image obtained from IMDB. No copyright infringement intended

এই লিস্টের এই মুভিটা বোধহয় মোটামুটি সব সিনেমাখোরদেরই দেখা। ২০০৭ সালের এ্যানিমেশন, কমেডি, ইন্সপাইরেশনাল মুভি হচ্ছে Ratatouille. মুভিটার মূল কথা হচ্ছে এনি বডি ক্যান কুক এবং কোয়ালিটিকে কখনোই স্টেরিওটাইপ করা যায় না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত হাসাবে এবং ফুডের প্রতি ভালোবাসা একটু হলেও বাড়াবে এ্যানিমেটেড এই মুভিটা।

৩.

The Hundred-Foot Journey:

Image obtained from IMDB. No copyright infringement intended.

টুডেস স্পেশাল মুভিতে নাসির উদ্দিন শাহ’র একটা ডায়ালগ ছিলো যার মানে হচ্ছে, তিনি সবসময় ভাবেন, ‘যদি ফ্রান্স কখনো ভারত শাসন করতো তাহলে কি হতো! পৃথিবীর সেরা দু’টো রান্নার ঐতিহ্য একত্রিত হলে নিশ্চিত ইউনিক কিছু বেড়িয়ে আসতো।’

২০১৪’র The Hundred-Foot Journey এই প্রশ্নটার কিছুটা হলেও উত্তর দেয়। রোমান্টিক-কমেডি এই মুভিটিতে ভারতের কড়ম পরিবার, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারনে ভারত ছাড়ে। ইংল্যান্ড হয়ে একসময় তারা পৌছায় ফ্রান্সে। ভারতে রেস্টুরেন্ট ছিলো, ইংল্যান্ডেও রান্নাবান্নার কাজই করেছে। সিদ্ধান্ত নেয় ফ্রান্সে রেস্টুরেন্ট খোলার।

উপমহাদেশীয় পরিবাগুলোতে সন্তানের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা, প্রেম, ক্যারিয়ারের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত, রেসিজম কি নেই এই মুভিটিতে। নতুন অভিনেতা হিসেবে মানিশ দেয়াল ফাঁটিয়ে অভিনয় করেছিলেন। সবচে’ মজার এবং দেখার মতো বিষয় ছিলো, ওম পুরি এবং অস্কার বিজয়ী হেলেন মিরেনের জ’ ড্রপিং কেমিস্ট্রি। ভাষাগত পার্থক্যের কারনে (ওম পুরীর উপমহাদেশীয় এ্যাকসেন্ট) আমি কল্পনাও করি দু’জন একসাথে এতোটা ভালো করবেন।

ফিউশন ফুডের প্রতি আগ্রহ থাকলে মুভিটি একটি মাস্ট ওয়াচ। রান্নার প্রসেস এবং এন্ড প্রোডাক্টও বেশ ভিভিডলি দেখানো হয়েছে মুভিটিতে।

২.

Julie & Julia:

Image obtained from IMDB. No copyright infringement intended

জুলিয়া চাইল্ড ষাট দশকের মাঝামাঝি থেকে আমেরিকার সেলিব্রেটি শেফ। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রায় ৫০ বছর বয়স হবার আগে মিসেস চাইল্ড ছিলেন শ্রেফ রান্নার প্রতি আগ্রহী গৃহিনী। আর রান্নার প্রতি তাঁর আগ্রহও জন্মায় বছর চল্লিশের দিকে গিয়ে।

জুলি পাওয়েল আমেরিকান একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে পড়াশুনা করেছিলেন। একসময় একটি উপন্যাস লেখার
কাজেও হাত দিয়েছিলেন। শেষ করেননি। জীবনের অনেক কিছুই তিনি শুরু করেন কিন্তু আর ধরে রাখেন না। প্রতি দিনের অফিস-বাসা র‍্যুটিনে ক্লান্ত। তাই একদিন সিদ্ধান্ত নেন, ১ বছরের মধ্যে তিনি জুলিয়া চাইল্ডের লেখা ‘Mastering the Art of French Cooking’ বইয়ের সবগুলো রেসিপি (৫২৪টা) তিনি রাধবেন। আর এ নিয়েই লেখালেখি করবেন ব্লগে।

দু’টো ঘটনাই সত্য। আর এই সত্য ঘটনার প্রেক্ষিতেই তৈরি ২০০৯ সালের Julie & Julia. মূল চরিত্রে মেরিল স্ট্রিপ আর এ্যামি এ্যাডামস। মুভির অভিনয় নিয়ে তাই কিছু বলার আছে বলে আমার মনে হয় না। মুভিটি দেখার পর আমি জুলিয়া চাইল্ডের অনুষ্ঠান দ্যা ফ্রেঞ্চ কুক ইউটিউবে দেখেছি। আমার মনে হচ্ছিল স্যুটিংয়ের সময় চাইল্ডের আত্মা বোধ হয় স্ট্রিপের ওপর ভর করেছিলো। কি ভাবে কেউ এতোটা পার্ফেক্ট হতে পারে।

অন্যান্য রান্নার মুভির চে’ Julie & Juliaতে রান্না করা খাবারের ফুটেজ কিছুটা কম ছিলো কিন্তু প্রসেস এবং খাবারের ব্যাখ্যা যেকোন ফুডির জন্য হেভিনলি। আর ইন্সপায়রেশনাল স্টোরি হবার কারনে প্রথম মিনিট থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত দর্শকের মুখে হাসি লেগে থাকতে বাধ্য।

১.

Chef:

Image obtained from IMDB. No copyright infringement intended.

অভিনেতা হিসেবে Jon Favreau কখনোই আমার খুব প্রিয় ছিলো না। এমনকি তাঁর অভিনেতা জীবনের কোলাবরেটর ভিন্স ভনকে নিয়ে যখন সে ‘মেড’ বানায় তখন একজন ডিরেক্টর হিসেবেও জনের প্রতি আমার যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো। মূলত আয়রন ম্যান মুভির মাধ্যমে পরিচালক Favreau কে আমি নতুন করে আবিষ্কার করি। যদিও ডাউনি জুনিয়রের পিচ পার্ফেক্ট অভিনয় এই ফ্যাঞ্চাইজির সফলতার অন্যতম কারন হিসেবে আমার সবসময়ই মনে হয়।

ডিরেক্টর এবং অভিনেতা হিসেবে Favreau এর সবচে’ বড় সারপ্রাইজ ছিলো ২০১৪’র শেফ। লো বাজেট মুভি। গল্প খুব সাধারণ। একজন শেফ ও একজন ক্রিটিকের ঝগড়া। সে সুত্রে শেফের চাকরী হারানো এবং শেষ পর্যন্ত নিজেকে খুঁজে পাওয়া। অভিনয়, ডিরেকশন, মেইন কাস্টদের কেমিস্ট্রি এবং অসাধারণ ফুডোগ্রাফি শেফকে ২০১৪ সালের অন্যতম সেরা মুভি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

নিজে একজন বাবা হিসেবে জানি, মুভিতে ব্যস্ততা ও সন্তানের প্রতি ভালোবাসার যে কনফ্লিক্ট মাঝে মাঝে দেখিয়েছে তা আসলে কতোটা বাস্তব এবং কষ্টকর।

ছবিটির এ্যাডভাইসার ছিলেন একজন ফুডট্র্যাক ওউনার। ফলে পুরো মুভি জুড়ে এক্সুইসিট ফুডের গ্ল্যামারাস ফটোগ্রাফি। যদি ফুডঅর্গাজম বলে কোন শব্দ থেকে থাকতো তবে এ মুভির জন্য সেটা ব্যবহার করা যেত।

২০১৭ তে এই মুভিটা হিন্দিতে রিমেক হয়। শুনেছি ভালো হয়নি।

একই জনরার আরো কিছু প্রিয় মুভি: Mostly Martha, The Big Night, Today’s Special, Ustaad Hotel, Burnt, Chocolate.

0%
0%
Awesome
  • User Ratings (1 Votes)
    9.8
Share.

About Author

অর্ণব গোস্বামী। বাংলাদেশী ব্লগার এবং প্রাক্তন সাংবাদিক। অনলাইনে লেখালেখির বয়স বছর আটেক। ইচ্ছা ছিলো, সমাজটাকে বদলে দেবার। মৌলবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষু, হুমকি-ধামকি আর সময়ে সময়ে আক্রমন দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে কিন্তু উদ্দেশ্য থেকে টলাতে পারেনি।

এখনো স্বপ্ন দেখি, বর্তমান বাংলাস্তান আবারো একদিন পরিণত হবে সোনার বাংলায়।

Leave A Reply

© Copyright 2017 | crafted by codesmite