অনুগল্প: KFC

0

নাহ! মনটা খারাপ হইয়া গ্যালো। এ্যামন না যে আমি আসিফকে খুব পছন্দ করি কিন্তু আজকে একটু বেশি-ই ঝাইড়া ফেলছি মনে হয়। নতুন পোলা, পার্টিতে সবাই ‘নয়া মাল’ বইলা খ্যাপাইতো। আমি-ই বলা যায় যা একটু সাপোর্ট দিতেসিলাম, গ্রুমিং করতেসিলাম। এইসব পোলারো পার্টিতে দরকার আসে। ইয়াং সোল। কামে দেয়। কিন্তু প্রবলেম হইতেসে এরা মাঝে মইধ্যে-ই ওভার এনথুসিয়াস্ট হইয়া যায়।

সামনে পার্টির বড় প্রোগ্রাম। কেন্দ্রিয় নেতারা আসবে, তাই যা হয় এধটু-আধটু ফিনান্সের সমস্যা। কথা নাই বার্তা নাই কোথা থাইকা আমার কাছে না জিগাইয়া এক মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংকের স্পন্সর জোগাড় করসে। সেইটা নিয়াই বিধিক ঝাড়ি দিলাম, ঘোড়া ডিঙায়ে ঘাস খাইতে নিষেধ করলাম। তবে এ্যাখন মনের ভিতর কেমন জানি খচখচ করতেসে অবশ্য তখন মনে হইতেসিল এইরকম বিখাউস পোলার পার্টিতে থাকার দরকার নাই! বেচারা মনে হয় কাইন্দাই দিসে। এখনো চোখ ছলছল। শুধু শুধু বাচ্চা ছেলেটারে কষ্ট দেওয়া উচিৎ হয় নাই। ও হয়তো আমার সামনে আসার সাহস পাইবো না তাই আমি-ই ওর কাছে গিয়া পিঠে হাত রেখে বলি,

‘দ্যাখ, তুই আমার ছোট ভাইয়ের মতো। তাই তোকে বকেছি। কিন্তু ঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা কর।
Our stand is against the imperialism and the capitalist monarchy.
ওরা সব সময়ই আমাদের ওপর চাঁপিয়ে দিতে চাচ্ছে নিজেদের মতবাদ। এখন আমাদের সাংগঠনিক কাজে ওদের বিজ্ঞাপন মানে নিজেদেরকে ওদের কাছে পরাভূত করা। বহুজাতিকরা সবসময়-ই নিজেদের Goal বাস্তবায়নের জন্য আমাদের পিঠে ছুড়ি চালিয়েছে।

আজ দ্যাখ BAT তে চাকরী করা এ্যাকটা ছেলে Initially যে মান্থলি স্যালারি ড্র করে এ্যাকটা রিকশাওয়ালা সারা জীবনে তা জমাতে পারে না। বল, এই শ্রেণি বৈষম্য কি তুই চাস? ওরা যদি আজ আমাদের পাশে দাড়ায় তবে আমরা শ্রেণিহীণ না, শ্রেণিশত্রুদের কাতারে। আর এরা কিন্তু শুধু শ্রেণি বৈষম্যের সৃষ্টি করছে তাই না, আমাদের সম্পদ-অর্থ-ভবিষ্যত বিদেশে পাঁচার করছে। খুব সাধারণভাবে ব্রেইন ড্রেইনের ব্যাপারটা দ্যাখ! এখন বল তুই শোষকের কাতারে না শোষিতের? তাহলে-ই আমার অবস্থানটা বুঝতে পারবি’।

কথাগুলা বইলা আমি একটু দম নেই। পোলাটার মাথায় হাত বুলায়ে দেই। মনে হয় কিছুটা স্বাভাবিক হয় আসিফ। হাসি দ্যায় এ্যাকটা। আমার-ও যেন মনটা একটু হালকা হয়। শুধু শুধু ঝামেলা কইরা লাভ আসে পোলাপাইনের সাথে? এতক্ষণ বুঝি নাই কিন্তু আসলে বেশ ক্ষুধা-ও লাগসে। এ্যাক প্রোগ্রাম পুরা পাগল কইরা ছাড়বে! নাহ! আগে খাওয়ার দরকার। নিশ্চিত আমার ঝাড়ি খাওয়ার পর এই ব্যাটা-ও কিছু খায় নাই। আমি ওর কাঁধে এ্যাকটা ঝাঁকি দিয়া বলি,
‘ক্ষুধা লাগসে। অনেকদিন KFC খাইনা চল্ KFC খেয়ে আসি।’

প্রথম প্রকাশ ১৬ জুন, ২০১১ – নাগরিক ব্লগ

0%
0%
Awesome
  • User Ratings (0 Votes)
    0
Share.

About Author

অর্ণব গোস্বামী। বাংলাদেশী ব্লগার এবং প্রাক্তন সাংবাদিক। অনলাইনে লেখালেখির বয়স বছর আটেক। ইচ্ছা ছিলো, সমাজটাকে বদলে দেবার। মৌলবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষু, হুমকি-ধামকি আর সময়ে সময়ে আক্রমন দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে কিন্তু উদ্দেশ্য থেকে টলাতে পারেনি।

এখনো স্বপ্ন দেখি, বর্তমান বাংলাস্তান আবারো একদিন পরিণত হবে সোনার বাংলায়।

Leave A Reply

© Copyright 2017 | crafted by codesmite